রাসুল (সাঃ) রোগ নিয়ে কথা বলছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি বলল, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, অসুখ জিনিষটা কি? আল্লাহর ফজলে আমার কখনও অসুখ-বিসুখ হয়নি’! রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি উঠে দাঁড়াও, আর তুমি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নও! – আবু দাউদ। ইতিহাসে প্রমাণিত ফেরাউনের কোনদিন রোগ হয় নাই! পৃথিবীতে এমন কোন নবী আসেন নাই, যার কখনও রোগ হয়নাই। বরং ভীষণ ব্যধি ও রোগ যন্ত্রণা নবীদের পোহাতে হয়েছে। তারা কখনও আল্লাহর নিকট অভিযোগ করেন নাই।
কোন সম্মানিত, পরহেজগার ব্যক্তির রোগ হলে অনেকে মনে করেন, তার কোন খারাপ কাজ বা গুনাহের কারণেই এটা হয়েছ। এটা সর্বান্তকরণে একটি ভুল চিন্তা ও অপবাদ। মূলত রোগ-বালাই, গুনাহের ক্ষতিপূরণ ও কাফফারা স্বরূপ। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনের এক রাত্রির জ্বর তার সমুদয় গুনাহ দূর করে দেয়’। -সূত্র, তারগীব তারহীব। রাসুল (সাঃ) আরো বলেছেন, ‘তোমরা জ্বরকে গালি দিওনা। কেননা এটা গুনাহকে এমনভাবে মুছে দেয়, যেভাবে আগুন লোহার মরিচা পরিষ্কার করে ফেলে। -সূত্র, ইবনে মাজাহ। অন্যত্র বলেছেন, মুমিন যদি একটি কাঁটাও বিধে, তার বিনিময়েও আল্লাহ তাঁর পাপ মার্জনা করবেন।
এই পৃথিবীর সকল রোগাক্রান্ত ধনীরা নিদ্ধির্ধায় বলে, তার চেয়ে কষ্টের জীবন আর কারো কাছে নাই। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ যাকে কল্যাণ দান করতে চান, তাকে কষ্টে ফেলেন’। মুয়াত্তা ইমাম মালেক। রোগ-বালা দুঃসাহসী, সীমালঙ্ঘন কারী স্বৈরাচারের মধ্যেও অনুতাপ, কোমলতা, বিনয়, বশ্যতা, নম্রতা, আল্লাহর ভীতি ও পরকালের স্মরণ সৃষ্টি করে। রোগ-বালাই মুমিনের ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার মানসিকতা সৃষ্ট করে। রোগীদের এই অনুতপ্ত অনুভূতির কারণে তারা নিষ্পাপ হয়ে যায় এবং শিশুদের মত অসহায়ত্ব বোধ করে।
রাসুল (সাঃ) রোগীদের দেখতে যাবার নির্দেশ দিয়েছেন। তার সার্বক্ষণিক খবরা-খবর রাখতে বলেছেন। রোগীদের প্রতি মমত্ব ও সহানুভূতির হাতকে প্রসারিত করতে বলেছেন। নিকটাত্মীয়-প্রতিবেশী কারো রোগের খবর জানলে, প্রথমেই তার খবর নেওয়া উচিত বলে উম্মাতদের দায়িত্ব দিয়েছেন। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “তুমি যখন রোগীর নিকট যাবে, তখন তাকে তোমার জন্য দোয়া করতে বলবে। নিশ্চয়ই রোগীর দোয়া ফেরেশতাদের দোয়ার মত”। -ইবনে মাজাহ।
একটু ভাবুন, নিজে রোগী দেখতে গেলেন, তাঁর খবরা-খবর নিলেন এবং তাঁর কাছে আহবান করলের আমার জন্য দোয়া করুন! একজন সুস্থ-সবল দরদী মানুষ কতটুকু আন্তরিকতা দেখালে পরে বিছানায় শুয়ে থাকা অসুস্থ মানুষ, নিজের দুঃখের কথা ভুলে, সবল ব্যক্তির জন্য চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ নিকট হাত তুলবে! এটাই হবে প্রকৃত দোয়া আদায় এবং এ দোয়া কবুল হবেই! আমাদের যত রোগ বালাই আসুক না কেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করার জন্য আল্লাহর নিকট তৌফিক চাইব। কোন অবস্থাতেই কাউকে, ভাগ্যকে দোষারোপ করব না। কখনও মৃত্যু কামনা করব না। রাসুল (সাঃ) মৃত্যু কামনা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। কষ্টভোগ বেড়ে গেলে যেন বলি, আল্লাহ আমার জন্য জীবন কিংবা মৃত্যু যেটাই কল্যাণকর সেটাই আমায় দাও।

Discussion about this post