দেশের বেশীর ভাগ পিতা-মাতার ইচ্ছে তাদের সন্তান বড় হয়ে সুন্দর-সাবলীল ভাবে ইংরেজিতে কথা বলবে। শহুরে বাবা-মা ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করিয়ে নিজেদের কিছুটা হালকা ভাবে আর গ্রামীণ জনপদের পিতা-মাতাদের কেউ কেউ উপশহরে এসে মাথা গুঁজায় আর যারা মধ্যবিত্ত ও অসচ্ছল তারা আশাহত হয়ে বুক চাপড়ায়।
অভিভাবকদের এই দুঃচিন্তাকে পূঁজি বানিয়ে আমাদের দেশে, নার্সারি, প্লে সহ নানাবিধ শিশু নিকেতন সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করালেই শিশুরা ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। সেখানেও অভিভাবকদের ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ।
ইংরেজী নিয়ে আমার পরিবারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য একটি সুন্দর পরামর্শ উপস্থাপন করতে চাই। এটা অনুসরণ করলে একেবারে অজ-পাড়া গায়ের পিতামাতাও তার সন্তানকে ইংরেজিতে পারদর্শী করে তুলতে পারবেন। এটা করতে কোন শিক্ষক লাগবে না, কোথাও টিউশনি করাতে হবেনা। পিতা-মাতার আন্তরিকতাই যথেষ্ট হবে।
আপনার শিশুর বয়স যদি আড়াই বছর পার হয়, তাহলে এই কাজের চিন্তা শুরু করতে পারেন আর এই কাজ বাস্তবায়নের জন্য দরকার হবে একটি 1000 words english book নামে একটি ইংরেজী বই।
দামের ভিন্নতায় এ সম্পর্কিত আরো বহু ইংরেজী বই আছে। কোনটাতে পৃষ্ঠা বেশি কোনটাতে কম। বেশী পৃষ্টার বইটি ভাল। ছবিতে যে বইটি দেখানো হয়েছে এটা বেশী পৃষ্টার বই।
মূলত ১০০০ শব্দের এই ইংরজী বইটি একটি ছবির সমাহার যা শিশুদের আকৃষ্ট করবে। আমাদের চারিপাশের জীবন, খাদ্য প্রণালী, পরিবেশ, প্রকৃতি, প্রাণী সহ সকল কিছুর সুন্দর ছবি এই বইতে আছে।
যেমন মই-কোদাল, চামচ-বাটি, বিচ্ছু-গিরগিটি, উকুন-আঠালী, মাস্তুল-করাত, হাস-মুরগী সহ দৈনন্দিন পরিচিত সকল জিনিসের পরিচিতি ইংরেজীতে আছে। বই এবং তার ছবিগুলো শিশু উপযোগী করে বানানো।
প্রতিটি ছবির নীচে বড় অক্ষরে ইংরেজিতে নাম দেওয়া হয়েছে। আকর্ষণীয় ছবি দেখেই শিশুরা অচিরেই ১০০০ টি জিনিষের ইংরেজি নাম শিখে ফেলে। মুখস্ত করতে না পারলেও সে সব জিনিষ ইংরেজীতে চিনে নিবে।
আমার গৃহিনী শিশু সন্তানকে এই বইটির সাথে পরিচিত করে দিয়েছিলেন চার বছর বয়সেই। দৈনিক পাঁচ থেকে দশটি শব্দের সাথে পরিচয় করে দিতেন। কোন দিন পাঁচটি শব্দ মুখস্থ হয়েছে কোনদিন একটাও হয়নি।
শিশু যখন বাইরে যেত তখন বইয়ের ছবির উপকরণ দেখলে সেই বলে উঠত এটা-তো সেটাই। কি যেন নাম? হয়ত তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে নয়ত সে এসেই উদ্ধার করেছে।
একই সাথে সে সব জিনিষের বিশুদ্ধ বাংলা নামও শিখানো হয়েছে। সন্তানের পিছনে এতটুকু শিক্ষার জন্য দরকার মাত্র আধা ঘণ্টা সময় লাগে। এই পদ্ধিতর কল্যাণে আমার শিশুটি মাত্র ছয় মাস শিশু শ্রেণীতে পড়েছে, তারপর প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। আর ঘরে বসে মায়ের সাথে একাধারেই খেলেছে।
নিজেরা যদি একটু আন্তরিক হয়ে উঠেন, তাহলে এক সময় বিশ্বাসই করতে পারবেন না যে, কখন শিশুটি পুরো বই শেষ করে ফেলেছে। এই সময়টুকু কোন অভিভাবক যদি তার সন্তানকে দিতে না পারে তাহলে তার অভিভাবক হওয়াটাই বেকার।
নিজেরা যদি একটু আন্তরিক হয়ে উঠেন, তাহলে এক সময় বিশ্বাসই করতে পারবেন না যে, কখন শিশুটি পুরো বই শেষ করে ফেলেছে। এই সময়টুকু কোন অভিভাবক যদি তার সন্তানকে দিতে না পারে তাহলে তার অভিভাবক হওয়াটাই বেকার।
ছয়-থেকে সাত বছরের মাথায় নিজের সন্তানকে আরো ১০০০ শব্দের ক্রিয়ামূল তথা গুরুত্বপূর্ণ বহুল ব্যবহৃত Verb শিখিয়ে ফেলুন। বাকি কাজটা স্কুলের উপর ছেড়ে দিন। বিনা প্রাইভেটেই সে চৌকশ হয়ে উঠবে।
রাঁধুনী যতই মজবুত ও পাক্কা হউক না কেন, ঘরে চাউল না থাকলে বিরানি, পান্তা, পোলাও, খিচুড়ি কিংবা রুটি কোনটাই বানাতে পারে না। সেভাবে ছাত্ররা যতই মেধাবী হউক, তাদের যদি শব্দ ভাণ্ডার না থাকে তাহলে তারাও বাক্য তৈরিতে সফল হবেনা।
শব্দ ভাণ্ডারের ক্ষমতা অর্জন ছাত্রদের নিজের ব্যাপার আর বিদ্যালয়ে ইংরেজী গ্রামার পড়িয়ে ছাত্রদের পেশাদার রাধুনী বানিয়ে দেয়। ছাত্রদের কাছে শব্দের পূঁজি কম থাকলে বাস্তব জীবনে সুবিধা করতে পারে না।
টিউশনির পিছনে অনেক টাকা খরচ না করে যদি খেলাচ্ছলে শিশুদের এই শব্দ ভাণ্ডারের সাথে পরিচিত করে তোলা যায়। সেটা পরিণতিতে অনেক উপকারে আসে। একেবারে গ্রামাঞ্চলের একজন সতর্ক অভিভাবকও এই কাজটি করতে পারবে। অধিকন্তু ইংরেজী মাধ্যমে পড়াতে পারেন নি বলে মনে হতাশার ও কিছু থাকবে না।
মনে রাখতে হবে, ইংরেজি ও বাংলা শব্দের উচ্চারণ যেন বিশুদ্ধ থাকে। এ ব্যাপারে হুশিয়ার থাকতে হবে। একটি শব্দকে কেন্দ্র করে দুটো ভাষার বিশুদ্ধ উচ্চারণ শেখার সুযোগ এই পদ্ধতিতেই আছে। ইংরেজি উচ্চারণের জন্য আমরা অফলাইন মাইক্রোসফট এনকার্টা ব্যবহার করেছিলাম।
গুগুলে এই সুবিধা সংযুক্ত করে দেবার কারণে, এককার্টা গত হয়ে গিয়েছে। খবর নিলে দেখতে পাবেন বাজারে আরো সুন্দর পোগ্রাম আছে। মোবাইলেও কাজটি হয়ত করা যেতে পারে।
