সুখী রোগী আর অসুখী রোগী

সুখী মানুষ আর অসুখী মানুষের প্রকার বুঝতে হলে, আগে মানুষের জীবন চরিতের দিকে নজর দিতে হবে। একজন দিন-মজুর, রিক্সা ওয়ালা সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যেভাবে একটি সুখের ঘুম দিতে পারে, একজন বিত্তশালী ব্যক্তি তা কখনও পারেনা।
তাদের প্রতিটি রাতের একটি মূল্যবান ঘুমের জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। ঘুমের বড়ি খেয়ে নির্ঘুম রাত কাটায় এমন ব্যক্তির সংখ্যা দুনিয়াতে একেবারে কম নয়। একদিকে ঔষধ কোম্পানি গুলো ঘুমের বড়ি বানাচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তে বিজিবি দিন-রাত ইয়াবা ধরার জন্য পাহারা বসিয়েছে। এসবই বিত্তশালী, সন্ত্রাসী কিংবা নেশাখোরের একটু সুখের ঘুমের জন্যই।
বেশী সুখে হয়রান হয়ে স্বাস্থ্য খারাপ করে রোগ বাধিয়েছে, এমন সুখী রোগীর সংখ্যা দুনিয়াতে কম নয়! ডাক্তারেরা এ’সব রোগীকে সহজে চিনে ফেলে। তবে একটু মাথা খাটালে সাধারণ মানুষেরাও সুখী রোগীদের পরিচয় বের করতে পারবে।
আরো খুলে বলতে গেলে, যে সমস্ত রোগীর গ্যাষ্ঠিক, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার জাতীয় রোগ আছে, মূলত তারাই হল সুখী রোগী! ডাক্তারেরাও বুঝে নেন পয়সা-কড়ি মোটামুটি খারাপ নয়। ভালই মাছ-গোশত, ডিম-দুধ খেতে পারে। আরাম আয়েশে দিন কাটায়।
এই লক্ষণের উপর ভর করে ডাক্তারও এই টেস্ট, সেই টেস্ট চালাতে চালাতে পায়ের নলার পানি শুকানোর কাজটা সেরে নেন (সব ডাক্তার কিন্তু এমন নন)। হাসপাতালের নার্সেরা কিন্তু এই জাতীয় রোগীদের সেবার জন্য বেশী আগ্রহ দেখায়। 
ব্যক্তি জীবনে অসুখী রোগীর সংখ্যাও মেলা! এতক্ষণে আকল দারেরা অনেকেই তাদেরকে চিনে ফেলেছেন! তারপরও খুলে বলা দরকার। যারা আমাশয়, বদ্ধ বিকার, পেট ফুলা, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, কাশি জাতীয় রোগে ভুগছেন; তারা সবাই অসুখী রোগী!
এদের নিয়ে ডাক্তার-নার্সদের তেমন একটা আগ্রহ থাকেনা। রোগীর প্রতি ডাক্তারের ভাবখানা থাকে এমন, ‘জলদি কাহিনী বলতে থাকেন, ঔষধের নামটা লিখে দিই’। আবার কখন জানি হাত জোড় করে, চিকিৎসা ফি না দেবার জন্য অনুনয় করা শুরু করে।
চিল তার বাচ্চাকে খাইয়ে জীবন বাচাতে হাসের বাচ্চা ছিনিয়ে নেয়। চিকিৎসার নামে গরীবের বসত ভিটা বিক্রি করা অর্থ দিয়ে নিজের নামে শহরে ফ্লাট কিনে। অন্যের সন্তানদের ইয়াবা খাইয়ে জীবন বরবাদ করে অগাধ সম্পদ কামাই করে নিজের সন্তানকে সুখে রাখার জন্যে।
জাতীয় অর্থ সম্পদ লুট করে পুরো জাতিকে বাঁশের খোল বানিয়ে ফেলে, নিজ পরিবারের একটু সুখের দিন আনয়নের জন্য। এত সব আয়োজন সুখের জন্যই। তারপরও মানুষ সুখী হতে পারেনা। 
যদি মানুষের জীবন পাখি কিংবা অন্য ইতর প্রাণীর মত হত। যাদের ব্যাংক নাই, ঘর নাই, খাদ্য রাখার জায়গা নাই। একটি নতুন দিন শুরু হলে, সেদিনের মত নুতন করে ভাবনা শুরু করতে হয়। এভাবেই দিন পার করে যতটুকু খেতে পারে ততটুকুতেই তারা শান্তি পায়।
মানুষের জীবনও যদি ওদের মত হত তাহলে তারাও সুখ ও শান্তিতে থাকতে পারত। পাবার মোহ মানুষকে ব্যস্ত করে রেখেছে। দুনিয়ার নিত্য নতুন চাহিদাই মানুষকে অসুখী করে তুলেছে এবং ইতর জানোয়ারের চেয়েও অধম বানিয়ে ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *